জায়দুল কবির ভাঙ্গি, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর: | বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 26 বার পঠিত
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) গবেষকরা কাঁঠালের বীজ থেকে ঘনীভূত খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান (মিনারেল কনসেন্ট্রেট) তৈরির একটি উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। কৃষিজ বর্জ্যকে উচ্চমূল্যের পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদানে রূপান্তরের এই প্রযুক্তির জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের পেটেন্টও অর্জিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক এবং তাঁর স্নাতকোত্তর গবেষক মো. আকরাম হোসেনের যৌথ গবেষণায় প্রযুক্তিটি উদ্ভাবিত হয়। গাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রায় তিন বছরের গবেষণার পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে এ প্রযুক্তি সফলভাবে উদ্ভাবন করা হয়।
এই উদ্ভাবনের মাধ্যমে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১টিতে। পাশাপাশি ‘গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে যাত্রা শুরুর পর এটিই প্রতিষ্ঠানটির প্রথম পেটেন্টপ্রাপ্ত প্রযুক্তি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও প্রযুক্তি বাণিজ্যিকীকরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শুকনো কাঁঠালের বীজে প্রায় ২ শতাংশ খনিজ উপাদান থাকলেও নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে তা ঘনীভূত করে ৩৩ শতাংশেরও বেশি মিনারেল কনসেন্ট্রেট তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। ফলে খনিজের ঘনত্ব প্রায় ১৬ থেকে ১৭ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যায়।
গবেষণাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘গ্র্যান্টস ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন (জিএআরই)’ প্রকল্পের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। পরে উদ্ভাবনটির গুরুত্ব বিবেচনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) প্রযুক্তিটিকে পি/বিডি/২০২৪/০০০০৪০ নম্বরে পেটেন্ট প্রদান করে।
গবেষকদের মতে, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, জিঙ্ক ও ম্যাঙ্গানিজের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের ঘাটতি এখনও দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠীর পুষ্টি সমস্যার অন্যতম কারণ। কাঁঠালের বীজ থেকে উৎপাদিত এই মিনারেল কনসেন্ট্রেট বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ব্যবহার করে অধিক পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
এ প্রযুক্তি খাদ্য অপচয় কমানোর পাশাপাশি কৃষিজ বর্জ্যের কার্যকর ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কাঁঠালভিত্তিক শিল্পের প্রসার, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিজ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করারও সুযোগ সৃষ্টি হবে।
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এটি শুধু একটি পেটেন্ট অর্জন নয়; বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি গবেষণায় একটি নতুন মাইলফলক। কৃষিজ বর্জ্যকে কীভাবে উচ্চমূল্যের পুষ্টিসমৃদ্ধ সম্পদে রূপান্তর করা যায়, আমাদের গবেষকরা তা প্রমাণ করেছেন। গবেষণাগারের উদ্ভাবনকে শিল্প ও সমাজের উপযোগী প্রযুক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
প্রযুক্তিটির অন্যতম উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক বলেন, “এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা গেলে দেশে নতুন পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যপণ্য উন্নয়নের পাশাপাশি কাঁঠালভিত্তিক শিল্পের বিকাশ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিজ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
উল্লেখ্য, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত ৯৭টি উন্নত ফসলের জাত এবং ২১টি প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে।
Posted ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah